বিএনপি কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের সেবাদাস নয়, গণমানুষের দল। বিএনপিকে এত সহজে পরাজিত করা যাবে না। যারা দেশকে ভালোবাসে, তারা বিএনপির সঙ্গে আছে। আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ফখরুল এই মন্তব্য করেন। এনডিপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রয়াত আনোয়ার জাহিদের নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনার আয়োজন করা হয়। ‘বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সহায়ক সরকারের কোনো বিকল্প নেই’ শীর্ষক এই আলোচনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, এনডিপির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা প্রমুখ। মির্জা ফখরুলের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকার বেআইনিভাবে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চাইছে। তারা রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভের ওপর হাত দিয়েছে। এখন তারা হাত দিয়েছে জুডিশিয়ারির (বিচার বিভাগ) ওপর। বিএনপির মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার প্রচেষ্টা করছে। সাধারণত সংবিধানের রায় যখন আসে, তখন কোনো একটা দল সংক্ষুব্ধ হয়। এ রায়ে আওয়ামী লীগ সংক্ষুব্ধ হয়েছে। রায়ে যদি আওয়ামী লীগ সংক্ষুব্ধ হয়েই থাকে, তাহলে তারা রিভিউ করতে পারে। কিন্তু তা না করে আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যেই জানিয়ে দিচ্ছে যে তারা এই রায়কে পরিবর্তন করে দেবে। নাহলে তারা প্রধান বিচারপতি ও রাষ্ট্রপতির বাসায় বৈঠক করত না।

মির্জা ফখরুল বলেন, আলোচনায় আওয়ামী লীগ নেতারা রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির কাছে কী বলেছেন, সেটা না বললেও গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে রায় নিয়ে আলোচনার বিষয়টিই প্রকাশ পেয়েছে। মানুষ প্রশাসনের কাছে আক্রান্ত হলে যায় বিচার বিভাগের কাছে। কিন্তু বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে তাদের (আওয়ামী লীগ) মন্ত্রীদের বক্তব্য নজিরবিহীন। একটি বেসামরিক ব্যবস্থায় সরকার কীভাবে বিচার বিভাগের ওপরে এ ধরনের হস্তক্ষেপ করে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিএনপির মহাসচিব বলেন, পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে ষোড়শ সংশোধনীর মূল রূপকার বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকই। তিনি জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাই তার বিচার ও শাস্তি হওয়া উচিত। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, ২০১৪ সালের মতো ‘রকিব মার্কা’ নির্বাচন আর বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না। দৈনিক আমাদের সময়